ঝিনাইগাতীর নকশী যুদ্ধ দিবস আজ
প্রকাশিত : ১১:১২, ৩ আগস্ট ২০২১

আজ ৩ আগস্ট। ঝিনাইগাতীর নকশী যুদ্ধ দিবস। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের এদিন ৩১ জন মুক্তিযোদ্ধা সম্মুখযুদ্ধে শহীদ ও নিখোঁজ হন। অন্যদিকে পাকিস্তান বাহিনী ও রাজাকার, আলবদরসহ ৬০ থেকে ৭০ জন নিহত হয়েছিল। আগের দিন ২ আগস্ট রাতে ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের সদস্যরা ইপিআর, পুলিশ ও মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে নিয়ে পাকিস্তান বাহিনীর ঘাঁটি নকশী বিওপি আক্রমণ করে। আর্টিলারিসহ পাকিস্তান বাহিনী আলবদর ও রাজাকারদের নিয়ে নকশীতে মুক্তিযোদ্ধাদের মুখোমুখি হয়। ইস্টবেঙ্গল ছিল কম্বাইন্ড ফোর্স। এখানে ছিল সিও মেজর আমিন, সিও মেজর শাফায়াত জামিল ও ক্যাপ্টেন আমিন আহম্মেদ চৌধুরী।
৩ আগস্ট ভোরে পরিকল্পনা অনুযায়ী মুক্তিযোদ্ধারা নকশী পাকিস্তান ক্যাম্পে আক্রমণ শুরু করে। নকশী পাকিস্তান ক্যাম্পের সামনে একটি পাহাড়ি ঝর্ণা রয়েছে। সিদ্ধান্ত ছিল, মুক্তিযোদ্ধারা ওই ঝর্ণায় অবস্থান নিয়ে গুলিবর্ষণ করবে। কিন্তু পেছন থেকে মর্টার শেলের আঘাতে যখন পাকিস্তান বাহিনী পর্যুদস্ত, এ সুযোগে মুক্তিযোদ্ধারা নকশী ক্যাম্প দখল করার জন্য তাদের অবস্থান পরিবর্তন করে ঝর্ণা থেকে এগিয়ে ক্রলিং করে নকশী ক্যাম্পের দিকে এগিয়ে যেতে থাকে। নকশী ক্যাম্পের চতুর্দিকে পাকিস্তান বাহিনী বাঁশের চোক্কা দিয়ে প্রতিরোধ গড়ে রেখেছিল। মুক্তিযোদ্ধারা ওই প্রতিরোধের মধ্যে ঢুকে পড়ে। এমন সময় পেছনে থাকা মুক্তিযোদ্ধাদের মর্টার শেল এসে তাদের ওপরই পড়তে থাকে। এ সম্মুখযুদ্ধে এবং নিজেদের মর্টার শেলের আঘাতে ঝিনাইগাতীর মানিককুড়া গ্রামের ইপিআর সদস্য আব্দুর রাজ্জাকসহ ৩১ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ ও পাকিস্তান বাহিনীর কাছে ধরা পড়ে ক'জন নিখোঁজ হন।
অন্যদিকে মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমণে পাকিস্তান বাহিনী, আলবদর ও রাজাকারসহ ৬০ থেকে ৭০ জন নিহত হয়।
ঝিনাইগাতী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমিরুজ্জামান জানান, বর্তমান সরকার নকশী যুদ্ধের ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এখানে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণের জন্য অর্থ বরাদ্দ করেছে। ইতোমধ্যে স্থানীয়ভাবে চাঁদা উত্তোলন করে জমি ক্রয় করা হয়েছে। জমির রেজিস্ট্রেশনও সম্পন্ন হয়েছে।
এসএ/